1. admin@sitakundnews.com : sitakundnews.com :
বুধবার, ২৫ নভেম্বর ২০২০, ০৭:২৩ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ

বিজয় স্মরণী কলেজে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ!

  • প্রকাশিত: শনিবার, ২১ নভেম্বর, ২০২০
  • ৪৯ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক:

ক্ষমতার চরম অপব্যবহার ও বিধি লঙ্ঘন করে সীতাকুণ্ডের বিজয় স্মরণী কলেজে আওমীপন্থী শিক্ষককে সরিয়ে এক জামাতপন্থী শিক্ষককে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নিয়োগের অভিযোগ উঠেছে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ইলিয়াস হোসেনের বিরুদ্ধে।

মুক্তিযুদ্ধের বিজয়ের স্মৃতিকে লালন করতে এলাকার সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতায় ভাটিয়ারী ইউনিয়ন পরিষদের প্রয়াত চেয়ারম্যান মুছা আহম্মদ চৌধুরী ১৯৯৩ সালে বিজয় স্মরণী নামে কলেজটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। আর সেই কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্বে একজন জামাতপন্থী শিক্ষকের নিয়োগে প্রতিষ্ঠাতা, গভর্ণিং বডি সাবেক সদস্য, ছাত্র-শিক্ষক ও এলাকাবাসীর মধ্যে চরম ক্ষোবের সঞ্চার হয়েছে।

কলেজটির ৪৪ জন শিক্ষকের মধ্যে ৩২ জন ইতোমধ্যে নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আবু জাফর সিদ্দিকির প্রতি অনাস্থা এনে আগের জনকে বহালের দাবি জানিয়ে জেলা প্রশাসকের বরাবর একটি স্বারকলীপিও দিয়েছেন।তবে জেলা প্রশাসক তার সিদ্ধান্তে অনড় থেকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর  চাপাচ্ছেন দায়।

জানা গেছে, সর্বশেষ গভর্ণিং বডি কর্তৃক নিয়োগকৃত ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ রেজাউল কাদেরকে সরিয়ে নিয়োগ দেয়া আবু জাফর ছিদ্দিকির বিরুদ্দে কলেজে জামাতপন্থি শিক্ষকদের নেতৃত্ব দেয়ার পাশাপাশি বেশ কয়েকটি অনিয়ম, দুর্ণিতি ও অসদাচরণের অভিযোগ রয়েছে। কয়েকবার লিখিতভাবে সতর্ক করার পর গভর্ণিং বডি একবার তার বিরুদ্ধে শাস্তিমুলক ব্যবস্থা গ্রহন করে কোন ধরনের বিভাগ বা কমিটির প্রধান না করার সিদ্ধান্তও নিয়েছিল। 

জানা যায়, করোনা কালে ৩রা মে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্বে থাকা উপাধ্যক্ষ ভূপতি কুমার দাশ নিহত হলে গভর্ণিং বডি আপৎকালীন সময়ের জন্য একজন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নিয়োগ করতে একটি কমিটি গঠন করে। জাতিয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি মোতাবেক কমিটি জেষ্ঠতম পাঁচ শিক্ষকের যোগ্যতা, সক্ষমতা ও অভিজ্ঞতা বিবেচনা করে রেজাউল কাদেরকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নিয়োগের সুপারিস করলে গভর্ণিং বডি তা আমলে নিয়ে ১৬ মে তাকে ৬ মাসের জন্য নিয়োগ দেন।

ইতোমধ্যে গভর্ণিং বডির মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়া ও মহমান্য হাইকোর্টের এক আদেশে সংসদ সদস্যদের কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতির দায়িত্বে থাকতে না পারার কারণে চলতি বছরের ১৭ সেপ্টেম্বর জাতিয় বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রমের জেলা প্রশাসককে প্রধান করে পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট একটি এডহক কমিটি গঠন করার জন্য ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ বরাবর একটি চিঠি দেয়।

এই সুযোগে এলাকার একটি প্রভাবশালী কুচক্রী মহল ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নিয়োগে জেষ্ঠতা লঙ্ঘনের ধোয়া তুলে জানাতপন্থী শিক্ষক আবু জাফর ছিদ্দিকিকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ বানাতে নানামুখী তৎপরতা ও দেন দরবার শুরু করে।

জাতিয় বিশ্ববিদ্যলয়ের অধিভুক্ত বেসরকারী শিক্ষকদের চাকুরীর শর্তাবলী রেগুলেশন (সংশোধিত) ২০১৯ এর ধারা ২ (i) বলা হয়েছে, “কলেজে অধ্যক্ষ পদ শূন্য হইলে/ অধ্যক্ষের অবর্তমানে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে উপাধ্যক্ষ/ জেষ্ঠতম ০৫ (পাঁচ) শিক্ষকের মধ্য হইতে যে কোন একজনকে দায়িত্ব প্রদান করিতে হইবে।

রেগুলেশনে জেষ্ঠতার ভিত্তিতে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নিয়োগের কোন বিধান না থাকলেও ততবির এতটাই জোরালো ছিল যে জাতিয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ পরিদর্শক প্রফেসর ড. মনিরুজ্জামান বিশ্ববিদ্যালয় প্রনিত বিধি লঙ্ঘন করে ‘জেষ্ঠতার ভিত্তিতে’ একজন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নিয়োগ দেয়ার জন্য এডহক কমিটির সভাপতিকে চিঠি দেন।

আবার পুর্নাঙ্গ এডহক কমিটি গঠন না করেই মনোনিত সভাপতি জেলা প্রশাসক ইলিয়াস হোসেন একক সিদ্ধান্তে গত ১৭ অক্টোবর, কলেজের প্যাড ব্যাবহার না করে এক সরকারী আদেশে পূর্বের গভর্ণিং বডি কর্তৃক বৈধভাবে নিয়োগকৃত ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ রেজাউল কাদেরকে সরিয়ে জানাতপন্থী শিক্ষক আবু জাফর সিদ্দিকীকে জেষ্ঠতার ভিত্তিতে দায়িত্ব প্রদান করেন। যা বিধি লঙ্ঘন ও ক্ষমতার চরম অপব্যাবহার বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আবার, একজন দায়িত্ব পালনরত ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই জেলা প্রশাসকের সরকারি আদেশে নিয়োগ পেয়ে গত ২১ অক্টোবর কলেজের প্যাডে দায়ীত্ব গ্রহনের ঘোষনা দেন আবু জাফর ছিদ্দিকী।          

ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নিয়োগের জন্য সর্বশেষ পুর্নাঙ্গ গভর্নিং বডি কর্তৃক গঠিত বাছাই কমিটির সদস্য আব্দুস সালাম সীতাকুণ্ড নিউজকে বলেন, সহকারী অধ্যাপক আবু জাফর ছিদ্দিক জেষ্ঠতার ভিত্তিতে তৃতিয় স্থানে ছিলেন। তবে ২০১৭ সালে তার বিরুদ্ধে জামাতের ডাকা হরতালে নেতৃত্ব দেয়ার অভিযোগ প্রমানিত হওয়ায় গভর্নিং বডির সভার রেজুলেশনে শাস্তিমুলক ব্যবস্থ হিসেবে কলেজের কোন বিভাগ ও কমিটির প্রধানের দায়িত্ব না দেয়ার সিদ্ধান্ত থাকায় আমরা তাকে বিবেচনা করতে পারিনি। বিধি মোতাবেক জাতিয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত বিষয়ের শিক্ষকদের মধ্যে জেষ্ঠতাক্রমে পঞ্চম স্থানে থাকা আওমীপন্থি সহকারী অধ্যাপক রেজাউল কাদেরকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগে সুপারিশ করে কমিটি।

এবিষয়ে বিজয় স্মরণী কলেজের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ছলিমপুর ইউনিয়েনের সাবেক চেয়ারম্যান মো: ফরিদ বলেন, বিধি লঙ্ঘন করে আবু জাফর সিদ্দিকীর মত প্রমানিত জামাতপস্থী শিক্ষকের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগ আমাদের মর্মাহত করেছে। আমরা তাকে প্রত্যহারের জন্য ডিসি সাহেবকে অনুরোধ করেছিলাম, তিনি আমাদের কথা রাখেন নি।

আগের গভর্নিং বডিতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি জাহাঙ্গির খালেদ বলেন, গভর্নিং বডি কর্তৃক নিয়োগকৃক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ প্রত্যাহার করে নতুন একজন নিয়োগ দিতে পারতেন জেলা প্রশাসক। কিন্তু তিনি কোন নিয়ম নীতি তোয়াক্কা না করে কোন যাচাই-বাছাই না করে এমন একজনকে নিয়োগ দিলেন যার বিরুদ্ধে জামাত সংশ্লিষ্টতা অভিযোগে শাস্তিমুলক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছিল।       

এবিষয়ে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ইলিয়াস হোসেন বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্দেশনার মোতাবেক জেষ্ঠতার ভিত্তিতে আবু জাফর সিদ্দিকিকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। কমিটি গঠন না করেই একক সিদ্ধান্তে সরকারি আদেশে নিয়োগ দেয়ার বিশয়ে জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি কৌশলে এড়িয়ে যান।

এদিকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ পরিদর্শক প্রফেসর ড. মনিরুজ্জামান তাঁর দেয়া ছিঠিতে ‘জেষ্ঠতার ভিত্তিতে’ নিয়োগ দেয়ার বিষয়টিকে নিছক ভুল বলে দাবি করেছেন। জেলা প্রশাসকের সরকারী আদেশে নিয়োগ পাওয়া ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ থাকলে তা লিখিত জানাতে বলে ভুলত্রুটি কিছু থাকলে তা তিনি সুধরে নেয়ার আশ্বাস দেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন
ওয়েবসাইট নকশা মাল্টিকেয়ার

প্রযুক্তি সহায়তায় মাল্টিকেয়ার